দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার, রোগ প্রতিরোধ, চিকিৎসাসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফার্মাসিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরতে প্রতিবছর ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস। আজ শুক্রবার বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন’। পরিবর্তিত স্বাস্থ্য চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফার্মাসিস্টদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, স্বীকৃতি ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর এবারের দিবসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের (এফআইপি) প্রতিষ্ঠার দিনকে স্মরণ করে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত হয়। ১৯১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৯ সালে এফআইপির পরিষদ ২৫ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ ছাড়া ২০২০ সাল থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফার্মেসি সপ্তাহও পালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ফার্মাসিস্টের পাশাপাশি ওষুধবিজ্ঞানী, ফার্মেসি প্রযুক্তিবিদসহ ফার্মেসি খাতের বিভিন্ন পেশাজীবীর অবদান তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্যসেবায় ফার্মাসিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া। পাশাপাশি রোগীদের ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম বোঝানো, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া এবং রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতেও তারা ভূমিকা রাখেন।
এফআইপি বলছে, জনসংখ্যার পরিবর্তন, অসংক্রামক রোগের বিস্তার, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং জলবায়ুজনিত নানা চ্যালেঞ্জের কারণে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বদলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ফার্মাসিস্টদের আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ফার্মাসিস্টদের কাজ শুধু ওষুধ সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া, রোগ প্রতিরোধে সহায়তা, রোগীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য প্রদান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জনসচেতনতা তৈরি এবং নতুন ওষুধ নিয়ে গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এফআইপির সভাপতি পল সিনক্লেয়ার বলেন, পরিবর্তিত স্বাস্থ্য চাহিদা মোকাবিলায় ফার্মাসিস্টদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, স্বীকৃতি ও কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ তৈরি করা গেলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও সহজলভ্য, কার্যকর ও টেকসই হতে পারে।
দিবসটি উপলক্ষে সরকার, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের প্রতি ফার্মাসিস্টদের জন্য সহায়ক নীতি প্রণয়ন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তাদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এমএম/